মিজানুর রহমান, লালমনিরহাট: লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদস্যদের অভিযানে বিপুল পরিমান ভারতীয় স্কাফ সিরাপ সহ ০১জন মাদক ব্যাবসায়ী আটক।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দায়িত্ব পূর্ণ সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যর ভিত্তিতে চোরাচালান ও মাদক বিরোধী ০২টি মাদক বিরোধী পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে জাউরানী ও দিঘলটারী বিওপির ০২টি বিশেষ টহলদল অভিযান পরিচালনা করে।
সোমবার (০৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জাউরানী বিওপি’র আওতাধীন দক্ষিণ জাউরানী থানা- হাতিবান্ধা জেলা-লালমনিরহাট নামক স্থানে বিজিবি’র টহলদল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে,এসময় সন্দেহজনক ব্যক্তিকে মোটর সাইকেলযোগে আসতে দেখে তার গতিবিধি লক্ষ্য করে বিজিবি টহলদল তাকে চ্যালেঞ্জ করলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে নামঃ মোঃ মুনছুর হেলাল(২০), পিতাঃ মোঃ আমান আলী, গ্রামঃ উত্তর ঝাউরানী, পোষ্টঃ ভেলাগুড়ি, থানাঃ হাতিবান্ধা,জেলাঃলালমনিরহাট কে একটি মোটরসাইকেল সহ আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে উক্ত মোটরসাইকেলে বিশেষভাবে লুকায়িত অবস্থায় ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ২৫ বোতল উদ্ধার করা হয়।
এছাড়ও, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ০৮:৩০ মিনিটে দিঘলটারী বিওপি’র আওতাধীন দক্ষিণ নামাটারী থানা-আদিতমারী জেলা-লালমনিরহাট নামক স্থানে বিজিবির টহলদল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে, এসময় কতিপয় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধি লক্ষ্য করে টহল দলের সদস্যরা ধাওয়া করলে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পরবর্তীতে ফেলে রাখা মালামাল তল্লাশী করে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ৩০০ বোতল জব্দ করা হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ৩২৫ বোতলের সিজার মূল্য ০১লক্ষ ৩০ হাজার টাকা এবং মোটর সাইকেল ১টি, যার সিজার মূল্য ১লক্ষ৫০ হাজা টাকাসহ সর্বমোট সিজার মূল্য ২ লক্ষ ৮০হাজার টাকা। উল্লেখিত ঘটনায় আটককৃত আসামীর বিরুদ্ধে হাতিবান্ধা থানায় মামলা দায়ের পূর্বক মাদকদ্রব্যসহ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এছাড়াও মাদক চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ঠ অন্যান্য চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম(পিএসসি) বলেন, দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।মাদক পাচার রোধে সীমান্ত এলাকার স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিত করে বিজিবি’র গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
এছাড়া তিনি স্থানীয় জনগণকে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা এবং প্রতিরোধে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং গোপন তথ্য প্রদানকারীদের পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তা দেন।