মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট: ত্রোয়দশ নির্বাচনে লালমনিরহাট -২ আসনে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা জমে উঠেছে,এবারের নির্বাচন তিস্তা পাড়ের মানুষের জন্য গুরুত্বপুর্ন্য, বৃহত রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ নির্বাচনে অনুপস্থিত থাকায় জামাত এবং জনতার দল আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক দখলে নিতে মরিয়া,ইতিমধ্যে আওয়ামীলীগ সমর্থিত ইউপি সদস্যদের দলে দলে যোগদান করিয়ে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তার বিজয় নিশ্চিতে কাজ করছেন।ফলে লালমনিরহাট ০২ সংসদীয় আসনে এবারের নির্বাচনী ফলাফল অতীতের সকল হিসেব নিকেষ বদলে দিবে।
লালমনিরহাট ০২ আসন
কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট ০২ আসন,১৬টি ইউনিয়নের ৪ লাখ ২৬ হাজার ১৭৯ জন ভোটার আসনটিতে।দীর্ঘদিন জাপার প্রার্থী মজিবুর রহমান মাস্টারের দখলে ছিল আসনটি।২০১৪ সাল থেকে আসন টি মহাজোট প্রার্থী নুরুজ্জামান আহমেদের দখলে আসে,২০১৮ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোট প্রার্থী রোকনুদ্দিন বাবুল ধানের শীষ নিয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।স্বাধীনতা পরবর্তী বিএনপি মজিবুর রহমান মাস্টারের হাত ধরে একবার বিজয়ী হয়,এরপর কখনোই এই আসনটিতে জয় লাভ করতে পারেনি।
এবারের নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভবনা রয়েছে আসনটিতে।প্রতিদ্বন্দ্বিতাপুর্ন্য নির্বাচনে বিএনপির রোকনুজ্জামান বাবুল কে দীর্ঘদিনের শরিক দল জামায়াতে ইসালামির শক্ত প্রার্থী ফিরোজ হায়দার লাভলু এবং টানা সাতবারের এমপি মজিবুর রহমান মাষ্টারের পুত্র নতুন রাজনৈতিক দলের প্রধান ব্রিগেডিয়ার শামীম কামাল কে মোকাবেলা করতে হচ্ছে,এর বাহিরে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় দলের বৃহত একটি অংশ প্রকাশ্যে বিরোধীতা করার ঘোষনা দেয়, এতে বাবুলের বিজয়ে বাঁধা হিসেবে দেখছেন সাধারন ভোটাররা।
জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী ফিরোজ হায়দার লাভলুর এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে, বন্যা,খরা,বিয়ের অনুষ্ঠান,জানাজা, সামাজিক অনুষ্ঠানে সরব উপস্থিতি,এতিম অসহায় শিশুদের লেখাপড়ার খরচ,দরিদ্র জন গোষ্ঠীকে সাহায্য সহযোগীতা,এলাকার মানুষের কাছে তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।দিনরাত মানুষের কাছে ছুটে চলেছেন ফিরোজ হায়দার লাভলু, এই নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হবেন এমনটাই তার সমর্থকরা মনে করে।
লালমনিরহাট -২ আসনের সাতবারের নির্বাচিত সাবেক এমপি মজিবুর রহমানের দ্বিতীয় পুত্র, নবগঠিত রাজনৈতিক দল জনতার দলের প্রধান ব্রিগেডিয়ার শামীম কামাল রাজনিতীতে নতুন একজন মানুষ। পিতার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, পারিবারিক ঐতিহ্য কে সামনে রেখে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিনি।দুই উপজেলার নৌকা মার্কার ভোট,জাতীয় পার্টির ভোট,বড় মাপের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক পুরোপুরি তার দিকে টানতে কাজ করছেন ব্রিগেডিয়ার শামীম কামাল, সকল সমীকরন মিলে গেলে বিজয়ের পথে তিনি এগিয়ে থাকবেন বলে মনে করছেন তার সমর্থকরা।
এর বাহিরে ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি মাহফুজুর রহমান গনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।