মিজানুর রহমান, লালমনিরহাট: লালমনিরহাট শহরের মোগলহাট রেলগেট এলাকায় অবস্থিত প্রায় ১৩ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত পাঁচতলা বিশিষ্ট ৪০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ‘নর্থ বেঙ্গল গেস্ট হাউজ’ জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে মালিক পক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষের অভিযোগ, গত ২৮ জানুয়ারি গেস্ট হাউজটিতে জোরপূর্বক তালা লাগানো হয় এবং পরে ১ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মালামাল তছনছ করা হয়।
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মুকুট চন্দ্র মোহন্ত লালমনিরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলুর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার অভিযোগ এনেছেন।
প্রতিষ্ঠানটির মূল মালিক এবিএম শরীফ উদ্দিন গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি মারা গেলে তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার গেস্ট হাউজটির দেখভাল ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। পরিবারের দাবি, শরীফ উদ্দিনের মৃত্যুর পর তার ছোট ভাই আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলু প্রতিষ্ঠানটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা শুরু করেন।
পারিবারিক ও আইনগত হিস্যা অনুযায়ী, আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলু এই সম্পত্তির ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ জমির মালিক। নিহত শরীফ উদ্দিনের স্ত্রী সেলিনা আক্তার এবং তার দুই মেয়ে ফারিয়া সানাম শরীফ ও ফাইরুজ শাবিবা শরীফ যৌথভাবে ১০ দশমিক ০৯ শতাংশ জমির মালিক। এছাড়া শরীফ উদ্দিনের দুই বোন প্রত্যেকে শুন্য দশমিক ৬৬ শতাংশ করে মালিকানা পান।
প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মুকুট চন্দ্র মোহন্ত বলেন, “গত ছয় মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ছিল। এই সুযোগে আরমান উদ্দিন টুলু প্রথমে জোর করে তালা লাগান। পরে ১ ফেব্রুয়ারি রাতে কয়েকজন ভাড়াটে লোক সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে গেস্ট হাউজে ঢুকে ভেতরের জিনিসপত্র তছনছ করেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমি মূল মালিকের পক্ষ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যানেজার। তাদের নির্দেশেই থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।”
নিহত শরীফ উদ্দিনের স্ত্রী সেলিনা আক্তার বলেন, “আমার স্বামী নিজের ক্রয়কৃত জমিতে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন। সব বৈধ কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। কিন্তু তার মৃত্যুর পর আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলু পুরো সম্পদের মালিকানা দাবি করে অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালিযে আসছিলেন। ১ ফেব্রুয়ারী রাতে তালা ভেঙ্গে প্রতিষ্ঠানেবর ভেতর প্রবেশ করে জিনিসপত্র তছনছ করেছেন।
তিনি জানান, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও মামলা নিষ্পত্তির আগেই টুলু তালা ভেঙে প্রতিষ্ঠানটি দখলে নিয়েছেন এবং আমাদেরকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন।
সেলিনা আক্তার আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটির দেখভাল ও মামলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আমি মুকুট চন্দ্র মোহন্তকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছি। এ কারণেই টুলু তার ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন। আইন অনুযায়ী যার যতটুকু হিস্যা, সে ততটুকুই পাবে—কিন্তু কেউ পুরো সম্পত্তি জোর করে দখল করতে পারে না।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলু বলেন, “আমি তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকেছি শুধু প্রতিষ্ঠানটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য। আমি কোনো জিনিসপত্র তছনছ করিনি।
তিনি আরও বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানে আমার অংশ আছে। আমি এর মালিক। ম্যানেজারের কথা কেন শুনব?আদালতে দায়ের করা মামলার বিষয়ে টুলু বলেন, “মামলা করেছি, মামলা চলবে। আমি প্রতিষ্ঠানটিতে ঢুকেছি—এর সঙ্গে মামলার কোনো সম্পর্ক নেই।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আপাতত কোনো পক্ষই যেন প্রতিষ্ঠানটিতে প্রবেশ না করে—সে জন্য উভয় পক্ষকেই সতর্ক করা হয়েছে। যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই চূড়ান্ত ফয়সালার জন্য সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে।