নিউজ ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জেনারেল সেক্রেটারি সালাউদ্দিন আম্মার গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় সংঘর্ষের সময় তিনি মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান।আহত অবস্থায় সালাউদ্দিন আম্মারকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, তার অবস্থা গুরুতর এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে শাহবাগের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল সংলগ্ন সড়ক থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও ছররা গুলি নিক্ষেপ করে। এ সময় সামনে অবস্থান করা সালাউদ্দিন আম্মার গুরুতর আহত হন।এই সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া ডাকসুর নেত্রী ফাতেম তাসনিম জুমা, জকসুর নেত্রী শান্তা আক্তারসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়, ‘জাবের ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। জুমা ও শান্তাকে বুট দিয়ে পাড়ানো হয়েছে। আপাতত কোনো জমায়েত করবেন না। আহতদের চিকিৎসা শেষে আমরা আবার রাজপথে ফিরব।’এর আগে সকাল থেকেই শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিল ইনকিলাব মঞ্চ।
একই দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনেও দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি চলছিল, যেখানে শহীদ হাদির পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের ওপর পুলিশি হামলা প্রমাণ করে যে বিচার চাইতে নামলেই দমন–পীড়নের শিকার হতে হচ্ছে। তারা ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।