February 26, 2026, 1:11 am

News Headline :
নগরীর মতিহার থানা বিএনপি’র আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত রাসিকে প্রশাসক হিসেবে তরুণ নেতৃত্ব চান নগরবাসী আ:লীগ নেতাদের জামিন হলেই গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিলেন রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি রাজশাহীতে সাব্বিরের হত্যাকারী “জাসন” গ্রেপ্তার রাজশাহীতে ছুরিকাঘাতে এক যুবক’কে হত্যা লালমনিরহাটে নিজ কন্যাকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে লম্পট বাবা গ্রেপ্তার নওগাঁয় জমিজমা বিরোধে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ওপর হামলা লালমনিরহাট জেলার উন্নয়নে দুর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রীর ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা রাজশাহীতে যুবদলের ওয়ার্ড কমিটিতে ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন, প্রতিবাদে মানববন্ধন লালমনিরহাট শহীদ মিনারে জেলা প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা,ত্রান ও দুর্যোগ মন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশ
রাসিকে প্রশাসক হিসেবে তরুণ নেতৃত্ব চান নগরবাসী

রাসিকে প্রশাসক হিসেবে তরুণ নেতৃত্ব চান নগরবাসী

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও তৎপরতা। প্রশাসক পদে একাধিক অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতার নাম সামনে এলেও তৃণমূল নেতাকর্মী ও নগরবাসীর বড় অংশের আস্থা ও সমর্থন বেশি দেখা যাচ্ছে মাহফুজুর রহমান রিটন-এর প্রতি।

সরেজমিনে ৩০টি ওয়ার্ডে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ মানুষ মনে করছেন—ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় তরুণ ও প্রযুক্তিবান্ধব নেতৃত্ব প্রয়োজন, আর সে জায়গায় রিটনের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা তাকে এগিয়ে রাখছে।

তৃণমূলের অনেকের ভাষ্য, প্রশাসক পদে নগর উন্নয়ন ও সেবার গতি বাড়াতে এমন নেতৃত্ব দরকার, যিনি রাজনীতি ও প্রশাসনিক উভয় ক্ষেত্রেই দক্ষ। রিটনের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা—ছাত্রদল থেকে শুরু করে মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক, পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি এবং বর্তমানে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক—তাকে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত করেছে বলে অনেকে মত দেন। তাদের মতে, তিনি সংগঠন পরিচালনায় দক্ষ এবং তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে, যা নগর প্রশাসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রশাসক পদে আলোচনায় থাকা অন্য নেতাদের মধ্যেও রয়েছে অভিজ্ঞতা। সাবেক মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল রাজশাহীর রাজনীতিতে সুপরিচিত মুখ। ২০১৩ সালে মেয়র নির্বাচিত হলেও নানা প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার কারণে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তাঁর সমর্থকেরা মনে করেন, প্রশাসক হিসেবে সুযোগ পেলে তিনি আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নগর উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ প্রশাসক পদে আগ্রহ প্রকাশ করলেও সরাসরি লবিংয়ের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, দল যদি যোগ্য মনে করে, তবে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংগঠন পরিচালনার দক্ষতা প্রশাসক হিসেবে কাজে আসতে পারে—এমন মতও রয়েছে দলের ভেতরে।

সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা সম্প্রতি ঢাকায় গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। প্রশাসক কিংবা মেয়র—দুই ক্ষেত্রেই দায়িত্ব পালনের আগ্রহ রয়েছে তাঁর। তবে তৃণমূলের আলোচনায় রিটনের নামই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।

আরেক নেতা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, প্রশাসক পদে সুযোগ পেলে তিনি নগর সেবায় কাজ করতে প্রস্তুত। তবে তিনি মনে করেন, বিগত সময়ে দায়িত্ব পালন করতে না পারা সাবেক মেয়রকে সম্মান জানানো হলে তা ইতিবাচক বার্তা দেবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে বিএনপির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকায় রাসিকেও দলীয় প্রভাব থাকতে পারে। তবে শেষ সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর নির্ভর করছে। প্রশাসক নিয়োগ হলে তা শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ করবে।

নগরবাসীর অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসক হিসেবে তরুণ ও দক্ষ নেতৃত্ব প্রয়োজন—যিনি আধুনিক প্রযুক্তি ও সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে পারবেন। সেই দৃষ্টিতে রিটনের নাম সামনে আসায় আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। সমর্থকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তাকে প্রশাসক পদে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি, তবে প্রশাসক নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাসিকে নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা—যে-ই দায়িত্ব পান, নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য।

Please Share This Post in Your Social Media

ads

ads



© All rights reserved © 2024
Developed by- .:: SHUMANBD ::.