শুক্রবার (২০ মার্চ) এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, এক মাসের সিয়াম সাধনা, আত্মসংযম এবং আত্মশুদ্ধির পর ঈদুল ফিতর মানুষের জীবনে আনন্দ, শান্তি ও নতুন আশার বার্তা নিয়ে আসে। এই উৎসব শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানুষের মন-মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনে, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করে এবং সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও মজবুত করে।
তিনি আরও বলেন, পবিত্র মাহে রমজান আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ, ধৈর্য এবং সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। এই শিক্ষা অনুসরণ করে সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান দায়িত্ব। ঈদের আনন্দ তখনই পরিপূর্ণতা পায়, যখন তা সবার মাঝে ভাগ করে নেওয়া যায়।
বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে ঐক্য, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে রেজাউল করিম বলেন, বিভেদ ও বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ঈদুল ফিতরের মূল শিক্ষা হলো ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য, যা সমাজকে আরও সুন্দর ও মানবিক করে তুলতে সহায়তা করে।
তিনি বলেন, একটি উন্নত জাতি গঠনে ন্যায়বিচার, সততা ও দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে নৈতিকতার চর্চা করে, তাহলে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
গণমাধ্যমের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, সমাজের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। সাংবাদিকরা সত্যনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বরেন্দ্র প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন, অধিকার রক্ষা এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সত্য প্রকাশের সাহস ও সততা একজন সাংবাদিকের প্রধান শক্তি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সত্য তুলে ধরাই প্রকৃত সাংবাদিকতার পরিচয়। এ ক্ষেত্রে বরেন্দ্র অঞ্চলের সাংবাদিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বার্তার শেষাংশে রেজাউল করিম দেশ ও জাতির শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। পাশাপাশি তিনি সকলকে স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “ঈদ হোক ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও মানবিকতার এক অনন্য মিলনমেলা। আমরা সবাই মিলে এই পবিত্র উৎসবের চেতনাকে ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে পারি।”
শেষে তিনি সবার সুস্বাস্থ্য, সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বলেন, ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি হৃদয়ে।