মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট: লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং ঝাউরানী বিওপি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ, ফেন্সিডিল, ফেয়ারডিল ও ভারতীয় গাজাঁ জব্দ করেছে।
২৫ (জানুয়ারি)বিকাল আনুমানিক ০৪:০০ ঘটিকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, লালমনিরহাট এবং ঝাউরানী বিওপির টহলদল খামারভাতী এলাকার একটি বাড়ীতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে, ব্যাপক তল্লাশীর একপর্যায়ে গরুর ঘরে মাটির নিছে প্লাষ্টিকের ড্রামের ভিতরে বিশেষভাবে লুকায়িত অবস্থায় বিপুল পরিমান ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করে।
একই দিন রাতে অনন্তপুর বিওপি’র আওতাধীন ভেন্নিরতল (থানা-ফুলবাড়ী, জেলা-কুড়িগ্রাম) নামক স্থানে টহল পরিচালনাকালে সন্দেহজনক চোরাকারবারীদের গতিবিধি টের পেয়ে টহলদল তাদেরকে চ্যালেঞ্জ কর,চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। চোরাকারবারীদের ফেলে রাখা মালামাল তল্লাশী করে ভারতীয় কিং ফিসার মদ ৪৭ বোতল এবং টুবর্গ বিয়ার ০৬ বোতল জব্দ করা হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ১। ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ৯৬৪ বোতল, ২। ফেন্সিডিল ৭২ বোতল, ৩। ফেয়ারডিল সিরাপ ৪১ বোতল এর সিজার মুল্য ৪,লাখ ৩০ হাজার টাকা ৪। ভারতীয় গাঁজা ৫ কেজি, যার সিজার মূল্য ১৭ হাজার ৫০০টাকা ৫। ভারতীয় মদ এবং বিয়ার ৫৩ বোতল, যার সিজার মূল্য ৭৯ হাজার ৫০০টাকা,সর্বমোট সিজার মূল্য ৫ লক্ষ ২৭ হাজার ৮০০ টাকা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিক এবং অন্যান্য চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার “লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি” বলেন, “দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। মাদক পাচার রোধে সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিত করে বিজিবি’র গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।”
এছাড়া তিনি স্থানীয় জনগণকে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা এবং প্রতিরোধে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং গোপন তথ্য প্রদানকারীদের পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তা দেন।এই অভিযানে বিজিবির সাহসিকতা ও কৌশলগত দক্ষতা প্রশংসার দাবিদার, যা মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।