February 1, 2026, 10:30 pm

News Headline :
সুজন আয়োজিত জনগনের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে লালমনিরহাট ৩ আসনের ৬ প্রার্থী একমঞ্চে

সুজন আয়োজিত জনগনের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে লালমনিরহাট ৩ আসনের ৬ প্রার্থী একমঞ্চে

মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট: সুশাসনের জন্য নাগরিক(সুজন)লালমনিরহাট জেলা আয়োজিত ‘জনগনের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে লালমনিরহাট ০৩ আসনের ০৬ প্রার্থী একমঞ্চে উপস্থিত।

শনিবার(৩১ জানুয়ারী)লালমনিরহাট রেল ওয়ে মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গনে “একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই” এই স্লোগানকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে প্রার্থীদের নিয়ে ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠান।

লালমনিরহাট-৩ আসনের ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এতে অংশ নেন এবং ভোটারদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা নিজেদের ইশতেহার ও উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।প্রার্থীরা হাতে হাত ধরে সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।

জেলা সুজনের সভাপতি আমিনুল হায়াত মুকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুজন জেলা কমিটির উপদেষ্টা গেরিলা লিডার ড. এস এম শফিকুল ইসলাম কানু। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুজনের রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়কারী রাজেশ দে।

লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত ক্রমিক অনুযায়ী প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবু তাহের বলেন, নির্বাচিত হলে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করব। প্রতিটি ইউনিয়নে অবকাঠামো গত উন্নয়নের পাশাপাশি ডিজিটাল সুবিধাসহ স্মার্ট স্কুল ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করব। কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে কৃষকদের স্বার্থে ধান, ভুট্টা, আলুসহ সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে একটি ‘কৃষক বাজার’ স্থাপন করা হবে।

বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, আপনারা জানেন আমি ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ গড়ার আন্দোলন করছি। মাদক, যৌতুক ও বাল্য বিবাহ সহ ১৩টি সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমি কঠোর অবস্থানে রয়েছি। কারণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও সমাজে শান্তি না থাকলে তা অর্থহীন। রেলওয়ের ঐতিহ্যবাহী এই শহরটি পুরোনো হলেও আধুনিক শহরের মর্যাদা পায়নি। নির্বাচিত হলে লালমনিরহাটকে আধুনিক শহরে রূপান্তর করার পরিকল্পনা আমার রয়েছে।

জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জাহিদ হাসান বলেন, রাজনীতি শুধু ভোট করে নেতা হওয়া বা রাস্তাঘাট নির্মাণ নয়, রাজনীতি হলো সুশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। জাতীয় পার্টি অতীতে তিস্তা ব্যারেজ, নীলফামারীর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এবং বুড়িমারী স্থলবন্দর আধুনিকায়নের মতো কাজ করে দেখিয়েছে। আবারও সুযোগ পেলে নতুন করে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা হবে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মনোনীত কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী মধুসূদন রায় মধু বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাম গণতান্ত্রিক সরকার গড়তে আমরা নির্বাচনে এসেছি। কমিউনিস্ট পার্টি বিশ্বজুড়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে। আমি নির্বাচিত হলে দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে কাজ করব।

গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত মাথাল মার্কার প্রার্থী দিপক কুমার রায় বলেন, লালমনিরহাট সহ রংপুরের দরিদ্র অঞ্চলে উন্নয়নে বিশেষ কমিশন গঠন উপর গুরুত্ব আরোপ দিয়ে বলেন জাতীয় বাজেটে অত্র অঞ্চলের অধিকার আদায়ে তার দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, লালমনিরহাট উন্নয়নের পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং মাদক ও চোরাচালন দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বক্তব্য শেষে উপস্থিত ভোটারদের মধ্য থেকে প্রতিটি প্রার্থীকে চারটি করে প্রশ্ন করেন। প্রার্থীরা সাবলীলভাবে এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেন। এই ব্যতিক্রমী আয়োজন দেখতে ও প্রার্থীদের কথা শুনতে রেলওয়ে মুক্ত মঞ্চ এলাকায় সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল লক্ষণীয়।

অনুষ্ঠানে একপর্যায়ে প্রার্থীদের স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারনামা পাঠ করে শোনান সুজন জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হাসনাত রানা এবং ভোটারদের শপথবাক্য পাঠ করান সুজন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান লাডলা।

Please Share This Post in Your Social Media

ads

ads



© All rights reserved © 2024
Developed by- .:: SHUMANBD ::.