নিউজ ডেস্ক: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মী আদালত থেকে জামিন পেলে তাঁদের পুনরায় অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান। গতকাল মঙ্গলবার ডিআইজি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রেঞ্জের অধীন আটটি জেলার পুলিশ সুপারদের (ডিএসবি) এই নির্দেশ পালনের কথা বলা হয়েছে।
ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত আদিষ্ট হয়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে—
(১) কার্যক্রম নিষিদ্ধ/স্থগিত ফ্যাসিস্ট সংগঠন/সংগঠনসমূহের যে নেতৃবৃন্দ এবং কর্মী জামিনে মুক্তির পর দলকে শক্তিশালী, সংগঠিতকরণ এবং মাঠপর্যায়ে তৎপরতা প্রদর্শন করতে সক্ষম, তাদের জামিন হওয়ার পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে (শ্যোন অ্যারেস্ট) হবে। আর যারা বর্ণিত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী নয়, তাদের জামিন হলে গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানোর প্রয়োজন আপাতত নেই।
(২) প্রটোকল ও প্রটেকশন প্রদানের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করতে হবে।’
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ইতিপূর্বে এ বিষয়ে গ্রুপ মেসেজের মাধ্যমে পুলিশ সুপারদের অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনুসরণীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে। রাজশাহী রেঞ্জের আওতায় থাকা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাট—এই আট জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
জানতে চাইলে ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘ইদানিং আমাদের কাছে ম্যাসেজ আসতেছে যে, সরকার যে সমস্ত সংগঠনকে নিষিদ্ধ করেছে তারা আবার তৎপর হচ্ছে। তারা বিভিন্ন ধরনের অকারেন্স ঘটাতে পারে এবং এরই মধ্যে তারা পুরনো সহকর্মীকে একত্রিত করতে পারে। এখন ক্রিমিনালগুলো যদি একত্রিত হয়, আপনিই তো দুইদিন পরে লিখবেন যে রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এই জন্য আমরা আগাম সতর্ক করলাম। যারা দোষী নয়, তাদেরকে ছেড়ে দেবে। যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।’
কাকে ধরা হবে আর কাকে হবে না সে ব্যাখা দিয়ে ডিআইজি উত্তরভূমিকে বলেন, ‘ধরেন একজন ডাকাত বের হইল। সে ডাকাতটা যদি আরও দশজনের ক্ষতি করে, তাহলে আপনি কি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবেন? এই জন্য তাকে তো আটকাতে হবে। আটকাব কীভাবে? আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েই তো আটকাতে হবে। আমরা তো নতুন করে মামলা করতে পারি না। ও তো জেলে ছিল। আমরা দেখব তার অন্য কোনো ডাকাতির মামলায় সম্পৃক্ততা আছে কি না। যদি থাকে তাহলে তাকে আটকাব। যদি না থাকে, তাহলে আটকাব না।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশ এখন মানবাধিকার-আইনের শাসনের মধ্যে আছে। এই অবস্থায় যেসব জঙ্গি সংগঠন আছে, বামপন্থী জঙ্গি সংগঠন আছে, ফ্যাসিস্ট সংগঠন আছে, সরকার যেগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, তারা এই সুযোগটা কেউ কেউ গ্রহণ করতে পারে। এ জন্যই আমরা সতর্ক।’
এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরের কোনো নির্দেশনা আছে কি না, জানতে চাইলে ডিআইজি বলেন, ‘হেডকোয়ার্টার থেকে আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা ছিল না। এটা আমাদের নিয়মিত নির্দেশনা। এখন আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ কী আছে? নির্বাচনের মধ্যে আমাদের কাছে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ ছিল। সেগুলো আমরা ওভারকাম করেছি। আমরা দেখেছি যে আমাদের সামনে কী চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। সেভাবেই আমার অফিসারদেরকে আমি নির্দেশনা দিয়েছি।’